তানোর মেয়রের বিরুদ্ধে ওয়ারিশন সনদ বাতিলের অভিযোগ

0
18

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় হিন্দু জমিদারের ওয়ারিশগণের পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগ দখল করতে ওয়ারিশন সনদ বাতিলের অভিযোগ উঠেছে তানোর পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তানোর পৌরসভার মেয়র ইমরুল হক-সহ ১৪ সদস্যের একটি সভার সিদ্ধান্তক্রমে পূর্বেরসহ বর্তমানের সকল ওয়ারিশন সানদ বাতিল করা হয়। মেয়র নিজে ওয়ারিশন সনদ প্রদান করে তা আবারও বাতিল করা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, তানোরের ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লিয়াকত আলী প্রস্তাব রাখেন তাঁর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল করিমের ছেলে শিশ মোহাম্মদ গতবছর ৩০ নভেম্বর মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ওয়ারিশন সনদ যাহার ক্রমিক নং ১৬৫১, ১৬৫২, ১৬৫৩, ১৪০৩, ১৪০৪, ১৪০৫, ১৪০৬, ১৪০৭ বাতিল করা হোক। শিশ মোহাম্মদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সনদে সুপারিশকারী সংরক্ষিত ১ নং মহিলা কাউন্সিলর গোলেহার নাজনীন বলেন, আমাকে ভুল বুঝিয়ে ওয়ারিশন সনদে সুপারিশ করা হয়েছে তা বাতিল করা হোক। সেই সুপারিশে গত ২৮ ডিসেম্বর উপরোক্ত সকল ওয়ারিশন সনদ বাতিল করা হয়। যা পক্ষপাতমূলক ও অযৌক্তিক এবং জমি দখলের পক্ষে একটি ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট সিদ্ধান্ত।

ভুক্তভোগী ওয়ারিশ তপন মজুমদার বলেন, তানোর উপজেলায় আমাদের কিছু পৈতৃক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে শিশ মোহাম্মদের সঙ্গে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ নানা ষড়যন্ত্র করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের পূর্বপুরুষের ওয়ারিশন সনদ বাতিল করতে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে পক্ষপাত মূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের নিকট থেকে নেওয়া ওয়ারিশন সনদ গুলো মেয়র কি ক্ষমতায় বাতিল করলেন তা এখনো আমার বোধগম্য নয়। তিনি কোন যাচাই বাছাই না করে একটি পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুধুমাত্র সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই চক্রটি আমাদের পূর্বপুরুষ দূর্গাচরণ মৈত্রের ছেলে বিশ্বলোচন মৈত্র ও কন্যা হেমনলনী দেবীকে অস্বীকার করছেন। ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সালসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়র আমাকে ওয়ারিশন সনদ প্রদান করেছেন, কিন্তু গত ২৮ ডিসেম্বর মেয়র ইমরুল হক একটি সভার মাধ্যমে সকল সনদ বাতিল করিয়া তা বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। এই ঘটনায় আমরা চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত।

শিশ মোহাম্মদ ওয়ারিশন সনদ বাতিল আবেদনে বলেন, মুক্তাকেশি দেবীর স্বামী মৃত দূর্গাচরন মৈত্র, এবং শ্রী হেমনলনী দেবী, পিতা দূর্গাচরন মৈত্র তানোর উপজেলার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন না। সরকারি রেকর্ড পত্রে তাদের কোন নাম নাই। তবুও তাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন ওয়ারিশন সনদ দিয়ে আমার পিতার রেজিষ্ট্রিকৃত বিনিময় দলিল তপন চন্দ্র মজুমদার নাম জারি করিয়া লইয়াছে। আবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওয়ারিশন কাগজের বলে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি যাহা প্রত্যাবর্তন আইনের আওতায় অবমুক্ত করিয়া এবং মামলা দাখিল করিয়া আত্মসাৎ করিতেছে।

এদিকে তপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মুলত আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করিতে চক্রটি নানাভাবে হয়রানি করছেন।
ওয়ারিশন সনদ বাতিলের বিষয়ে জানতে তানোর পৌরসভার মেয়র ইমরুল হককে ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপনাকে নিউজ কে করতে বলেছে। ভুল বশত তাদেরকে ওয়ারিশন সনদ দেওয়া হয়েছিলো। তা নিয়ম মেনে বাতিল করা হয়েছে। এটা আমি করতেই পারি।

বক্তব্য নিতে ১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর গোলেহার নাজনীনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি ভুলক্রমে তাদের ওয়ারিশন সনদ দেওয়া’র সুপারিশ করেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তারা আসলেই তানোরের বাসিন্দা না। সেই সনদ বাতিলে আবারও সুপারিশ করি আমি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐ হিন্দুরা আগে তানোরে ছিলো, এরপর তারা শিশ মোহাম্মদ এর সঙ্গে জমি বিনিময় করে ভারত চলে যায়। কিভাবে এবং কার সাথে জমি বিনিময় করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে বেশ কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে