দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায়, প্রতিবাদের নামে সাংবাদিকের চরিত্র হরণ

0
12

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম এর অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের চরিত্র ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে প্রতিবাদের নামে হুমকি প্রদান করেছেন পশ্চিম রেলওয়ের সরাঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান (সিওএস) এস এম রাসেদ ইবনে আকবর। এই হুমকি প্রদত্ত প্রতিবাদ তিনি ইমেইল এর মাধ্যমে প্রতিটি পত্রিকা অফিসে দিয়েছেন। যা তিনি কোন ভাবেই পারেন না।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বেলা ২ টার সময় [email protected] মেইলে সিওএস রাসেদ ইবনে আকবর স্বাক্ষরিত প্রতিবাদে সেই হুমকি প্রদান করা হয়।
তবে ঐ প্রতিবাদ লিপিতে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন সরকারি বাজেট কম থাকায় কিছু সুবিধা বঞ্চিত ঠিকাদার সাংবাদিকদের লেলিয়ে দিয়েছেন। একজন দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে প্রকাশ পায় যে, ঐ কর্মকর্তা তার মনমত ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে সুবিধা দিয়ে থাকেন। যারা সুবিধা পান না, তারা ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন!!!

জানা যায়, গত কয়েকদিন যাবৎ পশ্চিম রেলের সরাঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কেনাকাটায় অনিয়ম দুর্নীতি ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ হয় বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সাংবাদিককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বেলাল ও একজন ঠিকাদার। সাংবাদিক টাকা না নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখলে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন। এরপর সকল হুমকি উপেক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঐ দপ্তরের অসাধু ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও সিওএস তাদের অনিয়ম দুর্নীতি রুখতে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমের ই-মেইল যোগে উক্ত হুমকিসহ প্রতিবাদ লিপি পাঠান।
প্রতিবাদলিপিতে জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে হলুদ সাংবাদিক ও উক্ত সংবাদগুলোর মুলহোতাসহ তার চরিত্র নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও বানোয়াট কথা পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ঐ প্রতিবাদলিপি প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবসহ রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা বৃহত্তর আনন্দোলনে যাবে বলেও হুশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ দেশের বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম দপ্তরের সরাঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যার শিরোনাম হয় “হিন্দু কর্মকর্তারা “র” এজেন্টের লোক, বললেন পশ্চিম রেলের এ.ও বেলাল”। আবার কিছু পত্রিকায় শিরোনাম হয় “কোনভাবেই থামছেনা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দুর্নীতি”। সেই নিউজে সিওএস এর বেশ কিছু অনিয়ম দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এলটিএম এর মাধ্যমে নিজের মন মত ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করানো। এছাড়াও কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহায়ক সানোয়ার হোসেন ইতিমধ্যে একটি ভুয়া বিল উত্তোলন করে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন।

পরে এ ব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে