সুবিধাবঞ্চিত ২ নং ওয়ার্ডবাসীকে তাঁদের কাঙ্খিত সেবা দিতে চাই: পারভেজ

0
5

আসন্ন ২১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রচার- প্রচারণায় পিছিয়ে নেই রাসিকের ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। সেবা, সুশাসন, সুশিক্ষার সমন্বয়ে সর্বস্তরের নাগরিকদের সঠিক মূল্যায়নে একটি উন্নত ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াসিন সরকার পারভেজ। তিনি রাসিকের ২ নং ওয়ার্ডে এবারের নির্বাচনে মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে লড়ছেন। সুবিধাবঞ্চিত ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়নে নাগরিক সেবা তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছিয়ে দিতে এবার নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন তিনি। নিজের ঠেকে যাওয়া গল্প থেকেই এই প্রার্থীতায় অংশ গ্রহণ তাঁর। উপলব্ধি করেছেন সাধারণ মানুষের হয়রানিসহ নানা সমস্যার কথা।

গতকাল সোমবার (১২ জুন) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী এবং ওয়ার্ডবাসীর প্রিয় ব্যক্তিত্ব মিষ্টি কুমড়া প্রতীকের ইয়াসিন সরকার পারভেজ বলেন, আমি কারো সমালোচনা করতে চাই না। জনগণ ওয়ার্ড উন্নয়নে যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তবে আমি নিজে সঠিক থেকে সঠিক প্রক্রিয়ায় সঠিক জায়গায় কাজ করতে গিয়ে ঠেকেছি। ক্ষমতা না থাকায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এই উপলব্ধি থেকে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা চিন্তা করে প্রার্থী হয়েছি। ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের নিকট গিয়ে শুনেছি তাদের সমস্যাগুলো। সমস্যা নিরসনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।

এসময় তিনি আরও বলেন, ছোট বেলায় একটি কবিতা পড়েছিলাম, “সবার সুখে হাসবো আমি, কাঁদবো সবার দুঃখে” আজ আমরা মানুষের সুখে হিংসে করি, দুঃখ দেখলে পালিয়ে যাই। মানবতার মানবিক গুনগুলো আজ ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই মানবসেবার ব্রত নিয়ে ঘুমান্ত মানবিক গুনগুলি আবারও জাগ্রত করতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” কবিতার এই উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আজ কথায় বড় হয়েছি কিন্তু কাজে নই। আমাদের কাজে বড় হতে হবে। আজ তরুণদের মাঝে দেশপ্রেম ও আল্লাহর ভয় নেই বললেই চলে। এটার জন্য আমরা দায়ী, সমাজ দায়ী। তাদের মধ্যে সেই দেশপ্রেম ও আল্লাহর ভয় জাগ্রত করতে হবে। আমার একার পক্ষে ওয়ার্ডের সকল উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সম্ভব বলে আশ্বস্ত করলে তা চরম মিথ্যা বলা হবে।

তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর পাশে থেকে তাদের সমস্যা শুনবো। সেই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ওয়ার্ডবাসীকে নিয়ে সমাধান করবো। বর্তমানে জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের রাজা বাদশা মনে করেন। আমি তাদের বলতে চাই আপনারা রাজা বাদশা নন, আপনারা জনগণের চাকর। আমি জনগণের চাকর হিসেবে, তাদের দেওয়া অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন করবো মাত্র। আমি ওয়ার্ডের টেকশই উন্নয়নে কাজ করবো। বেকার সমস্যা নিরসনে উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করবো। বেকার সমস্যা দুর করলে ওয়ার্ড এমনি এমনি সুন্দর হয়ে যাবে। কর্মব্যস্ত জীবন সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আমরা জানি অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আখড়া। আর অলস বেকাররাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়। অনেকে মাদকে জড়িয়ে পড়েন। তাই বেকার সমস্যা সমাধানে শিক্ষিত, আধা শিক্ষিত, নিরক্ষর মানুষদের নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরিতে সবার প্রতি আহবান করছি। আমি নির্বাচিত না হলেও সমাজের জন্য কাজ করবো, নির্বাচিত হলে তো কোনো কথাই নাই। আমার ওয়ার্ডের কোর্ট কলেজ খ্রিস্টান পাড়ায় কিছু পিছিয়ে পড়া উপজাতি আছেন। আমি তাদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। তাদের ছেলে মেয়ে এখন অনেক শিক্ষিত। কিন্তু তাঁরা সেভাবে সুযোগ সুবিধা পায়না। আমি তাদের উন্নয়নে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

সর্বশেষ তিনি বলেন, কিছু খারাপ মানুষ আমার প্রচার প্রচারণার ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এটা করবেন না প্লিজ। ওয়ার্ডবাসীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনার ওয়ার্ডের আগামী ৫ বছরের ভবিষ্যৎ কার হাতে তুলে দিবেন সেটা আপনার সুচিন্তিত মতামতের উপর ছেড়ে দিলাম। অর্থের বিনিময়ে এমন কারো হাতে আপনার মূল্যবান ভোট দিবেন না, যাতে আপনার ছেলে সন্তান পরবর্তীতে কষ্ট পায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে