পুলিশ বক্সের নাকের ডগায় রমরমা মাদক ও জুয়ার আসর

0
2

রাজশাহীতে আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে জুয়াড়ি ও মাদক কারবারিরা। নবাগত পুলিশ কমিশনারকে বুঝতে না দিয়ে কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যের ছত্রছায়ায় চলছে সেই জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রির রমরমা ব্যবসা। অথচ পুলিশ বলছে, তাদেরকে নিষেধ করলেও কথা শোনেনা, তাদের অনেক ক্ষমতা কথায় কথায় বাস বন্ধের হুমকি দেয় । এমন বক্তব্য দিলেন রাজশাহী বাস টার্মিনাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই (উপ-পরিদর্শক) আলমগীর হোসেন।

দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালে একক রামরাজত্ব কায়েম করছেন বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদ ও ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। যার অদৃশ্য ছায়া শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া পরিচালনা করছেন শ্রমিক ইউনিয়নের সড়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন। কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে সেখানে চলমান নেশা ও জুয়ার আসর। এ যেন এক মিনি ক্যাসিনো। এই জুয়ার আসরের কারণে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত বাস শ্রমিকরা। শুধু তাই নয়, জুয়ার কারনে বেশির ভাগ শ্রমিকের সংসারে রয়েছে অশান্তি। আর জুয়ার নেতৃত্বদাতারা হচ্ছেন আংগুল ফুলে কলাগাছ। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা সেখানে চলে রমরমা জুয়া। কেচিগেট লাগিয়ে ভিতরে আলিশানভবে চলে জুয়া ও মাদক। শ্রমিকসহ নানা শ্রেণী পেশার নানা বয়সী মানুষ সেখানে জুয়া খেলে। গুটিকয়েকবার র‍্যাব সেখানে অভিযান করে বিপুল টাকা উদ্ধারসহ ১০-১৫ জন জুয়ারি আটক করেছিলো। পুলিশ কখনোই সেখানে অভিযান করতে চায় না।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক বলছে, প্রশাসনের সকলকে ম্যানেজ করে জুয়া বোর্ড চলছে। এই জুয়ার বোর্ড কেউ বন্ধ করতে পারেনা। দেখেন জুয়া বোর্ডের মাত্র ১০ হাত দুরে পুলিশ বক্স। অথচ পুলিশ নিরব। তার মানে বুঝে নিতে হবে!!

এদিকে টার্মিনালের ছায়াশক্তি, শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির। দেশের সুনামধন্য পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে “সংগঠনের টাকা মেরে কোটিপতি মাহাতাব”। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়নের জমি-ভবন, সদস্য কার্ড বিক্রির টাকা, দৈনিক চাঁদা-সবই হাতিয়ে নিয়েছেন। চড়েন অর্ধকোটি টাকার গাড়িতে, থাকেন পাঁচতলা বাড়িতে। ১০টি বাসের মালিক হয়েও শ্রমিকনেতা। এমন আরও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। যা আগামীতে অনুসন্ধানের তকমা ধরে সংবাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পলিশের (আরএমপি) সম্মানিত পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদানের পর শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাঁকাসহ মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের কারবারে শীলগালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে আরএমপি কমিশনার হিসেবে আনিসুর রহমান যোগদানের পর থেকে তাঁর অগোচরে আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে মাদক ও জুয়া কারবারিরা। নগরবাসীর আশা, নবাগত পুলিশ কমিশনার নগরীর বিখ্যাত দুই প্রভাবশালী জুয়ার আসর বন্ধ করবেন। অপর জুয়ার আসরটি চলে উপশহর নিউমার্কেট এলাকায়। সেখানেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তি চালায় মিনি ক্যাসিনো।

এবিষয়ে আরএমপি পুলিশের মিডিয়া মুখ্যপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় সচেতন আছে। এগুলোর খবর পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাস টর্মিনাল পুলিশবক্সের সামনে জুয়ার আসরের কথা উল্লেখ করলে, তিনি কোন মন্তব্য না করে বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়, তবে আপনি বললেন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে