ধরাছোঁয়ার বাইরে মিন্টু, হুমকির মুখে তথ্যদাতা

0
4

রাজশাহীতে প্রশাসনের নামে মাসোহারা উত্তোলনকারী মিন্টু মিয়া গ্রেফতার হয়নি, উল্টো হুমকিসহ আতংকে আছেন তথ্য প্রদানকারী আর সাংবাদিক। প্রশাসনের মাসোহারা তুলতে গিয়ে ভয়ংকর প্রতারণা, চাঁদাবাজি আর সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগসহ মিন্টুর ২ ডজন অডিও ক্লিপ হাতে আসে সাংবাদিকদের।

এ নিয়ে একাধিক জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয় গত ১৮ নভেম্বর, এতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন, কিন্তু বিধিবাম, মিন্টু গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যে বাসায় ভাড়া থাকে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি, সে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে নেপথ্যে থেকে মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছে তথ্য দাতা আর সাংবাদিকদের।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর প্রকাশ্যে তার পক্ষ নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রশাসনের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা, যারা মিন্টুর অপকর্মে সরাসরি মদদদাতা। তারা মিন্টুকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

জানা যায়, প্রশাসনকেও ব্লাকমেইল করতে অভিযানে গিয়ে সে ভিডিও করে রাখে। পরে সেই ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল করে ফায়দা হাসিল করে মিন্টু। গোদাগাড়ীর রফিকুল হত্যার ভিডিও ফাঁসের মুলনায়ক সে। রাজশাহীর বায়াতে সে ভাড়া থাকে আর আসল বাড়ি নাটোর সদরের ছাতনী গ্রামে। সংবাদ প্রকাশের পর থেকে মিন্টুর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে আরও একাধিক ভুক্তভোগী।

সূত্র বলছে, প্রকৃত পক্ষে জেলা ডিবি’র পরিদর্শক আতিকুর রেজা’র লোক সে। বেশিরভাগ সময় সে আতিকের সঙ্গে অভিযানে থাকে। একারণে সংবাদ প্রকাশের পর আতিকের হুমকির মুখে পড়েছে তথ্যদাতারা । পরিদর্শক আতিকুর রেজা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজশাহী জেলা ডিবিতে কর্মরত। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বহু সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে এখনো তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কথিত আছে, আতিক এক কর্মকর্তার আর্শিবাদ পূষ্ট। আতিক দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত হওয়ায় গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যার মধ্যে মনি মাইকেল ওরফে মিন্টু। মিন্টু পরিদর্শক আতিকুর রেজা’র মাসোহারা তুলতে গিয়েই অন্যান্য প্রশাসনের নাম ভাঙাতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশাসনের লোক বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি প্রতারক মিন্টু ওরফে মাইকেল মাসোহারাসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার নামও ব্যবহার করছে, তখন থেকে তাকে খোঁজা হচ্ছে। খোঁজ নিতে তাঁর বায়া বাসায় গেলে জানা যায় সে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছেন। বর্তমানে সে গা ঢাকা দিয়েছে । কিন্তু ফোনে এখনো তার প্রতারণা চলছে।

ওই প্রতারকের সঙ্গে সরাসরি কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত বলেও একটি বিশ্বাসযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করেছেন। সুত্রের কথা অনুযায়ী কল রেকর্ড বিশ্লেষণে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষ বলছেন, মিন্টু মুলত ডিবি’র পরিদর্শক আতিকুর রেজা’র লোক। তার নামে মাসোহারা তোলাই তার কাজ৷ মিন্টুকে টাকা না দিলে পরিদর্শক তাদের আটক করেন। অডিওতে মিন্টুকে বলতে শোনা যায়, সম্প্রতি উজ্জ্বল নামে একজনকে তার কথা না শোনায় তাকে আটক করিয়েছে সে। কোথাও গোয়েন্দা পুলিশ, কোথাও বিজিবি’র সিও, পরিচয় দানকারী মিন্টু’র ফোন নম্বর সার্চ দিলে সিও মিন্টু নাম ভেসে আসে। এতে অনেকেই বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। এমনকি পুলিশের টুপি পড়া একটি ছবিও ভাসে তার নম্বরে, এভাবেই সে সাধারণ মানুষকে তার অস্তিত্বের জানান দেয় ।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোর্স মিন্টু গোদাগাড়ীতে কয়েকজন মাদক কারবারি ও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করে। এরকম অনেক অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ায় ধীরে ধীরে অনেক অপকর্মের খোঁজ মিলতে থাকে সংবাদকর্মীদের কাছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরে একটি ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদে চারঘাট থানার ওসি মাহবুবুল আলমের টাকা দাবি’র অডিও ফাঁস হয়। ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ওই ঘটনায় অপর দোষী ব্যক্তি জেলা ডিবি’র পরিদর্শক আতিকুর রেজার কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় ওসি ও আতিকুর রেজা’র বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের উদ্ধর্তন মহলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগে ওই নারী দাবি করেন, ডিবি পুলিশ তাঁর স্বামীকে সাজানো মাদক মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় প্রতিপক্ষের দ্বারা ম্যানেজ হয়ে ডিবির পরিদর্শক আতিকুর রেজা তার স্বামীকে মাদক উদ্ধারের সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করেন। অন্য আরেকটি ঘটনায় ২০২২ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালে দেবীপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাওন আজমকে হেরোইন ও ইয়াবা মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন ডিবির ওই কর্মকর্তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে সাধারন লোকজনের রোষালনে পড়ে সাওন আজমকে ছেড়ে দিয়ে তড়িঘড়ি করে এলাকা ত্যাগ করেন ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা। ৪ আগস্ট-২২ সালে দূর্গাপুরের অপর আরেক ঘটনায় রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আতিকুর রেজা সরকারের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও মিথ্যা মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন হয়েছিল।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে রাজশাহী জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল আলম বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। জেনে বুঝে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে