শিশুদের উদ্ভাবন কীটনাশক ছাড়া ফসল উৎপাদন

0
4
শিশু শিক্ষার্থীদের বিকশিত চিন্তা ভাবনার সুশৃঙ্খল উপস্থাপনে ভবিষ্যৎ গ্রাম বাংলার উন্নয়নে আদর্শ মডেল ‘Organic Village’ নামে একটি চমৎকার বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে কীটনাশক ও বালাইনাশক ছাড়া কীভাবে ফসল উৎপাদন করা যায় তার সুন্দর বাস্তব ভিত্তিক উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বে বালাইনাশক ছাড়া ফসল উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে সেটিই বাস্তব মডেলে উপস্থাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) প্রতি বছরের মতো এবারও রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে সকাল ১০ টা থেকে বিপুল উৎসাহে আয়োজিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান প্রকল্প ও দেয়ালিকা প্রদর্শনী।
এবার প্রদর্শনীতে চারটি হাউজ তথা পদ্মা, যমুনা, ধরলা ও তিস্তা দল অংশগ্রহন করে। প্রতিটি হাউজের আলাদা আলাদা দেয়ালিকা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী ছিলো। হাউজগুলোর হাউজ-মাস্টারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনায় দেয়ালিকা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশগ্রহন করে।
দেয়ালিকাগুলোয় ফুটে উঠেছে তাদের বিকশিত চিন্তা ভাবনার সুশৃঙ্খল উপস্থাপন। সব হাউজ মিলে প্রায় ৬০টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শন করে। বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে আগামীর পৃথিবীর সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বৈচিত্রপূর্ণ সব উপস্থাপনা ছিলো।
এই প্রদর্শনীতে সব থেকে বড়ো যায়গা জুড়ে ছিলো ‘একটি বাড়ি একটি খামার, শেখ হাসিনার অঙ্গিকার’ শিরোনামে খামার বাড়ির বাস্তব উপস্থাপন।  “একটি বাড়ি একটি খামার, শেখ হাসিনার অঙ্গিকার’ শিরোনামে খামার বাড়ির বাস্তব উপস্থাপনে স্কুল আঙিনা যেন হয়ে উঠেছে এক টুকরো গ্রামের আদর্শ খামার বাড়ি। কৌতুহলী শহুরে শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ নয়নে দেখছিলো এই প্রদর্শনী।একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে প্রাথমিক জরিপের ভিত্তিতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য সমবায় ভিত্তিক ‘গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন’ সৃষ্টি করে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সাথে দরিদ্রদের মধ্যে দুগ্ধবতী গাভি, মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও ফসলের বীজ বিতরণ করা হয়। ভবিষৎ গ্রাম বাংলার উন্নয়নে আদর্শ মডেলটি ছিলো বেশ কৌতুহলদ্দীপক।
‘An Ideal City’ নামে আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব শহরের মডেল উপস্থাপনা করা হয়। ভবিষৎ বাংলাদেশের শহরগুলো কীভাবে গ্রিন অ্যানার্জি ব্যবহার করে শক্তির ব্যবহারে জীবাশ্ম জ্বালানীর ওপর চাপ কমাবে সেটি দেখানো হয়। তাছাড়া শহরের কমিউনিটি স্পেসে বাচ্চারা খেলার জায়গা সাঁতার সহ বিভিন্ন রকম সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে তার উদ্ভাবনী উপস্থাপনা ছিলো এই প্রদর্শনীতে।
আরও উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞান প্রদর্শনীর মধ্যে ছিল সৌর শক্তির ব্যবহার নিয়ে বিস্তৃত ও নতুন যায়গায় ব্যবহারের মডেল। পানির অপচয় রোধে কৃত্রিম বুদ্ধির সাহায্যে পানির মোটর অন-অফ সিস্টেম। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে বৈচিত্রপূর্ণ উপস্থাপনা। দেয়ালিকাগুলোয় শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল চিন্তার মমতপূর্ণ উপস্থাপন করেছে লেখা ও আঁকার মাধ্যমে। যমুনা হাউজের দেয়ালিকের বিষয় ছিলো ‘কালান্তর’ । সেখানে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমানের যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তন তার যত্নপূর্ণ উপস্থাপন। রঙ-তুলি ও লেখার মাধ্যমে কল্পনার অন্যান্য লেপন দেখা যায় এই দেয়ালিকায়।
পদ্মা হাউজ ‘রাজশাহী একাল-সেকাল’ নিয়ে রাজশাহীর ম্যাপের মাঝে দেয়ালিকায় উপস্থাপন করেছে ঐতিহ্যবাহী শহরের বিবর্তন ও বর্তমান রূপ। তিস্তা হাউজ ‘অনুপমে অমাবস্যা’ নামে বাংলাদেশের প্রকৃতির সুন্দর রূপ ও বর্তমানে বাড়তে থাকা কলকারখানার ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণের ফলে সৃষ্ট সমস্যাকে নান্দনিক উপায়ে ফুটিয়ে তুলেছে তাদের দেয়ালিকায়।
‘রীতি’ নামের দেয়ালিকা নিয়ে প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলো ধরলা হাউজ। এই দেয়ালিকায় স্মার্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের অসাধারণ উপস্থাপনা এ দেয়ালিকাটি আলাদাভাব নজরে এসেছে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রদর্শনী ও দেয়ালিকা পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরে এমন সৃজনশীল কাজগুলো ভবিষ্যতে নিজদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে সহায়তা করবে। রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের বরাবরই যে বাস্তব জ্ঞানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেষ্টা করে এই আয়োজন সেগুলোরই একটা তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাজহারুল হক মেলা পরিদর্শন শেষে বলেন, “শিক্ষার্থীদের বৈচিত্রপূর্ণ জ্ঞান অন্বেষী করে তোলার চেষ্টায় রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ সারা বছর জুড়েই যে বিভিন্ন সহপাঠ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এই প্রদর্শনী সেগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য। এই প্রদর্শনীতে আমি আসতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিত বোধ করছি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে